শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১১

মানসপটে আবদুল হক চৌধুরী

[২৬ অক্টোবর ছিল চট্টল গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর প্রয়াণ দিবস। তাঁর মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলাদেশের স্বাধীনতা -র ১০ নভেম্বর ১৯৯৪ তারিখের সংখ্যায় আমি তাঁকে নিয়ে একটি লেখা লিখেছিলাম। লেখাটি তাঁর প্রয়াণ দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলিস্বরূপ এখানে হুবহু তুলে দিলাম।]

২৭ অক্টোবর ১৯৯৪, বৃহস্পতিবার বিকালে বেতার ভবনের বার্তা কক্ষে গিয়ে সেদিনের দৈনিক আজাদী পত্রিকাটি পড়ার জন্য চোখের সামনে মেলে ধরলাম। প্রথম পৃষ্ঠার এক জায়গায় আমার চোখ আটকে গেল। বড়-বড় অক্ষরে লেখা চট্টগ্রামের খ্যাতিমান গবেষক আবদুল হক চৌধুরী আর নেই। হেডিংটা পড়েই কতক্ষণ বাকরুদ্ধ ছিলাম বলতে পারব না। বুকের ভেতরটা কেমন জানি মুচড়ে উঠল। পরে প্রকৃতিস্থ হয়ে পুরো নিউজটা পড়লাম। পুরো নিউজটা পড়ে বুঝলাম ততক্ষণে তাঁর মৃতদেহ দাফন করা হয়ে গেছে। একটুও জানান না দিয়ে প্রচার বিমুখ গুণীব্যক্তিটি এভাবে চলে গেলেন, বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় বই-কী। সেদিন নানা ব্যস্ততার কারণে বিকাল অবধি কোনো দৈনিকই পড়ে হয়ে ওঠেনি। আমার আফশোস, সকালেও যদি জানতাম তা হলে ডিসি রোডস্থ মনীষা -য় না হোক অন্তত মহসিন কলেজ মাঠে হলেও তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধাটুকু জানাতে পারতাম। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধাটুকুও জানাতে পারলাম না, এ দুঃখবোধ চিরদিন বয়ে বেড়াতে হবে আমাকে।

মরহুম আবদুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ১৯৯১-এর মাঝামাঝি সময়ে। পরিচয়ের মাধ্যম ছিলেন চট্টগ্রাম বেতারের প্রাক্তন উপ-মুখ্য প্রযোজক ও আমার অগ্রজপ্রতিম প্রয়াত উ চ নু (উ বা)। পরিচয়ের পর থেকে আরাকান বিষয়ক গ্রন্থ ও তথ্যের প্রয়োজনে তিনি ডিসি রোডস্থ আমার বাসায় মাঝে-মধ্যে আসতেন। আমিও তাঁর বাসভবন মনীষা -য় যেতাম মাঝে-মধ্যে। তখন আমার সঙ্গে থাকতেন মিরসরাই ডিগ্রি কলেজের (তৎকালীন) প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) মং উ সাং। আমি এবং প্রভাষক মং উ সাং আরাকানের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিকে মাঝে-মধ্যে লিখে থাকি। তাই মরহুম আবদুল হক চৌধুরী ও আমাদের দু'জনের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক হতে বেশিদিন লাগেনি। মরহুম চৌধুরীর লেখা চট্টগ্রাম নামের নতুন উৎস এবং চেরাগী পাহাড় নামের নতুন উৎস শীর্ষক নিবন্ধ দু'টির তথ্যপঞ্জিতে প্রয়াত উ চ নু (উ বা) এবং প্রভাষক মং উ সাঙের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাঁর রাউজান নামের নতুন উৎস নিবন্ধটি লেখার সময় তাঁকে আমি প্রয়োজনীয় তথ্য জোগান দিয়েছিলাম। বলা বাহুল্য, মরহুম আবদুল হক চৌধুরী আমার শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন, বয়সে তিনি আমার প্রয়াত জনকের কাছাকাছি। তাই তাঁকে আমি চাচা বলে ডাকতাম। তিনিও আমাকে স্নেহের চোখে দেখতেন। জীবদ্দশায় তিনি যতবার আমার বাসায় এসেছিলেন, প্রত্যেকবারই আসতেন খুব ভোরে। এসে নীচ থেকে মং হ্লা, মং হ্লা কিংবা পিন্টু, পিন্টু বলে ডাকতেন নয় তো সরাসরি উপরে এসে দরজায় নক করতেন। একবার খুব ভোরে (দিনটা ছিল সম্ভবত একুশে ফেব্রুয়ারি) এসে বললেন, চলো, তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যাব । তাঁর কথানুযায়ী তৈরি হয়ে বাসা থেকে বেরোলাম। নিয়ে গেলেন আলমাস সিনেমা হলের কাছে এক বাসায়। ওটা ছিল খ্যাতিমান চিত্রকর মুর্তজা বশীরের বাসা। সেখানে শ্রদ্ধেয় মুর্তজা বশীরের সংগৃহীত দু-একটি আরাকানি (পঞ্চদশ শতকের) মুদ্রার গায়ে উৎকীর্ণ আরাকানি তথা রাখাইন লিপির পাঠোদ্ধার করতে হল আমাকে।

পরিশ্রমী গবেষক মরহুম আবদুল হক চৌধুরীর লেখা বেশ ক'টি দীর্ঘ নিবন্ধের কপি করে দিয়েছিলাম আমি বাংলা একাডেমী পত্রিকা -র জন্য। তা ছাড়া বাংলা একাডেমী থেকে সদ্য প্রকাশিত তাঁর প্রচীন আরাকান: রোয়াইঙ্গ্যা, হিন্দু ও বড়ুয়া বৌদ্ধ অধিবাসী গবেষণা গ্রন্থে যতগুলো আরাকানি বৌদ্ধ তথা রাখাইন রাজার নাম রয়েছে সেগুলোর (পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়ার আগে) সঠিক বানান (রাখাইন উচ্চারণ অনুযায়ী) লিখে দিয়েছিলাম। বছর দুয়েক আগে আমার প্রয়োজনে কক্সবাজারের ইতিহাস গ্রন্থটা দু-একদিনের জন্য ধার চাইতে গিয়েছিলাম তাঁর বাসভবনে অর্থাৎ মনীষা -য়। সেদিন আমাকে বললেন যে, রাখাইন সম্প্রদায় সম্পর্কিত তিনটি লেখা তাঁর প্রয়োজন। লেখাগুলো হচ্ছে-- জন্ম, বিয়ে এবং মৃত্যু সম্পর্কিত। তন্মধ্যে ইতিপূর্বে একটা মাসিকে প্রকাশিত রাখাইন সমাজে বিয়ে শীর্ষক আমার লেখাটা তিনি সংগ্রহ করেছেন বলে জানালেন। বাকি রইল জন্ম এবং মৃত্যু অর্থাৎ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পর্কিত দু'টি লেখা। লেখা দু'টি শীঘ্রই তৈরি করে দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে তাগাদা দিলেন। তাঁর কথানুযায়ী আমি আমার অভিজ্ঞতা এবং মাউইয়ের (মাসি) কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে রাখাইনদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শীর্ষক লেখাটি তৈরি করলাম এবং একটা দৈনিকে পাঠিয়ে দিলাম। পরে ওই পত্রিকার ফোটোকপি তাঁর অর্থাৎ মরহুম চৌধুরীর কাছে দিয়ে এলাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে পারিনি বলে রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্ম বিষয়ক লেখাটা এতদিন তৈরি করা হয়ে ওঠেনি। সম্প্রতি আমি এ সম্পর্কিত সব তথ্য সংগ্রহ করেছি। কিন্তু লেখাটা তৈরি করার আগেই তিনি অকস্মাৎ চলে গেলেন। একেবারে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। মরহুম আবদুল হক চৌধুরীর প্রয়োজনেই আমি লেখাটা তৈরি করতে চেয়েছিলাম। এবং তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভসঞ্চার থেকে শুরু করে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় রীতিনীতির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নোট করে রাখলাম। কিন্তু লেখাটা ছাপানো আকারে তাঁর হাতে তুলে দিতে পারলাম না। এ অপারগতা আমাকে চিরদিন খোঁচা দেবে।

শ্রদ্ধেয় আবদুল হক চৌধুরী আলাপকালে প্রায়ই বলতেন যে, আমাদের অর্থাৎ আমি এবং প্রভাষক মং উ সাঙের সঙ্গে অন্তত আরও পাঁচ বছর আগে পরিচিত হলে ভালো হত। তা হলে আরাকানের ইতিহাস আরও তথ্যসমৃদ্ধ এবং বিস্তারিত আকারে লিখতে পারতেন। আমাদের সঙ্গে আরও আগে পরিচিত না হওয়ায় তিনি সবসময় আক্ষেপ করতেন। মৃত্যুর মাস দুয়েক আগে একটা সংকলনের সৌজন্য কপি পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলাম। সেটাই ছিল তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা। সেদিন বললেন, আমার হার্টের অসুখ। কয়েকদিনের মধ্যে ভারত যাব, চিকিৎসা করানোর জন্য। তার পর ফিরে এসে কক্সবাজার যাব। কক্সবাজারে গিয়ে প্রত্যক্ষ করব তোমাদের (অর্থাৎ রাখাইনদের) সামাজিক রীতিনীতি ও আচার-আচরণ । কিন্তু তাঁর আর কক্সবাজার যাওয়া হল না।

স্কুল জীবনে তাঁর গ্রন্থের (চট্টগ্রামের সমাজ ও সংস্কৃতি) সঙ্গে আমার পরিচয়। তাঁর ওই গ্রন্থ পড়েই আমি আমার পিতৃভূমি আরাকান সম্পর্কে সর্বপ্রথম জানি। পরবর্তীতে তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ সংগ্রহ করেছি এবং পড়েছি। অস্বীকার করব না, আরাকানের ইতিহাস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন এবং লেখালেখি করেন তাঁদের মধ্যে আমার দৃষ্টিতে মরহুম আবদুল হক চৌধুরী অন্যদের তুলনায় বহুগুণে নিরপেক্ষ। তাই আমি প্রয়োজনে তাঁর বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে থাকি।

ব্যক্তি আবদুল হক চৌধুরী আজ আমাদের মাঝে নেই তা সত্য। কিন্তু তাঁর পরিশ্রমের ফসলগুলো আমাদের বুক-শেলফগুলোতে স্থান করে নিয়েছে। তিনি তাঁর গ্রন্থের মাধ্যমে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল ধরে।
বিস্তারিত পড়ুন

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১১

কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ 'রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়'

বাংলাদেশের সবচেয়ে নিম্নশিক্ষার হার অধ্যুষিত মফস্বল শহর হচ্ছে কক্সবাজার। পর্যটননগরী কক্সবাজারের গোড়াপত্তন থেকে অদ্যাবধি এই অঞ্চলে শিক্ষার যতটুকু সম্প্রসারণ ঘটেছে তার মুখ্য ভূমিকায় রামু থানার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখযোগ্য। কক্সবাজার জেলার (তৎকালীন মহকুমা) সর্বপ্রথম উচ্চ বিদ্যালয় এটি। রামুর তদানীন্তন ধনাঢ্য রাখাইন পরিবারের সন্তান প্রয়াত দানবীর পোয়েজা (বণিক অর্থে) উ-খিজারী এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে।

উ-খিজারীর জন্ম (জনশ্রুতিতে) ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে। তিনি ছিলেন বর্মি তথা রাখাইন ভাষায় একজন সুশিক্ষিত বোদ্ধা। বাংলা ভাষায়ও সমভাবে দক্ষ ছিলেন তিনি। বঙ্গবাসী হিসাবে তাঁর স্বদেশপ্রীতি ছিল অপরিসীম। কর্মজীবনে বণিক হলেও তিনি ছিলেন অসাধারণ বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তাই তখনকার অন্ধকার যুগেও উ-খিজারী ভাবতে পেরেছিলেন জন্মভূমিকে শিক্ষার আলোকে আলোকিত করবার কথা। তাঁর সেই দূরদর্শিতার ফল হচ্ছে আজকের এই রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।


২.৩৫ একর জমির উপর সর্বপ্রথম বিদ্যালয়টি নির্মিত হয় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে। বিদ্যালয় ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয় তৎকালীন মুদ্রায় ৭০ হাজার টাকা (বর্তমান অর্থাৎ ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের মুদ্রায় হিসেব করলে দাঁড়ায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা)। এই বিদ্যালয় ভবনটির নির্মাণশৈলীও ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্যের। এটি ছিল সম্পূর্ণ সেগুন কাঠের তৈরি। উ-খিজারী সুদূর রেঙ্গুন থেকে সিদ্ধ করা প্রচুর সেগুন কাঠ এবং সুদক্ষ কাঠমিস্ত্রী আনিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করে অপূর্ব কারুকার্যমণ্ডিত বৌদ্ধ প্যাগোডা স্টাইলের বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। ঐতিহাসিকভাবেই এটি তৎকালীন কক্সবাজার মহকুমার সর্বপ্রথম স্থাপিত উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে স্থাপন করা হলেও বিদ্যালয়ের নথিপত্রে দেখা যায় যে, এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯২২ খ্রিস্টাব্দ। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন তখন তুঙ্গে। সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত (বার এট ল') এই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের এক জনসভায় ব্রিটিশবিরোধী বক্তব্য রাখেন। ফলে বিদ্যালয়টি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পতিত হয়। বিদ্যালয়ের যাবতীয় সম্পদসহ বিদ্যালয়টিকে স্থানান্তর করা হয় মহকুমা শহর কক্সবাজারে। বর্তমানে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পূর্ব দিকে অবস্থিত জরাজীর্ণ কাঠের বেড়া ও টিনের ঘরটিই রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভগ্নাংশ।

১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সেই যুদ্ধের কাঁপন লাগে বিশ্বব্যাপী। তার অভিশাপ থেকে রেহাই পায়নি প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই বিদ্যালয়টি। সামরিক বাহিনীর লোকেরা হুকুমদখল করে নেয় বিদ্যালয় ভবন এবং বিদ্যালয়ের মাঠ হয়ে ওঠে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্র। ফলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অগত্যা বর্তমান রামু চৌমুহনীর বাস স্টেশনসংলগ্ন দাঅং (বানানভেদে দং) দীঘির পূর্ব দিকে একচালাবিশিষ্ট একটি খড়ের ঘরে বেশ কিছুদিন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এই বিদ্যালয়টির উপর একদিন নেমে এল বিরাট বিপর্যয়। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ। দুর্ঘটনাজনিত এক অগ্নিকাণ্ডে এই বিদ্যালয়টি ভস্মীভূত হয়ে যায় সম্পূর্ণভাবে। রামুবাসীর জন্য এই অপ্রত্যাশিত দৈবদশা চরম আঘাতের বেদনা বয়ে আনলেও সে বেদনায় মুহ্যমান হয়ে থাকেনি রামুবাসী। সর্বস্তরের জনগণ তাদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয়টির পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রসারিত করেছিল সাহায্যের হাত। মরহুম জাফর আলম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় তৎকালীন প্রাদেশিক শাসনকর্তা অনুদান দিয়েছিলেন ২৫ হাজার টাকা (তৎকালীন মুদ্রায়)।

১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়টি পুনঃনির্মাণের সময় ১২ কক্ষবিশিষ্ট ১৩৮ ফুট দীর্ঘ ও ২৮ ফুট প্রশস্ত একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ২ কক্ষবিশিষ্ট ৫০ ফুট দীর্ঘ ও ২৭ ফুট প্রশস্ত আরও একটি দ্বিতল ভবন এবং ৮২ ফুট দীর্ঘ ও ৩৬ ফুট প্রশস্ত একটি মিলনায়তন নির্মাণ করা হয়।

রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভাঙাগড়ার ইতিহাসে প্রয়াত পোয়েজা উ-খিজারীর পর যাঁদের অবদান স্মরণীয় তাঁদের মধ্যে মরহুম মেহের আলী বিএল অন্যতম। বিদ্যালয়টি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যা করেছিলেন আজকাল তেমন দৃষ্টান্ত বিরল। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও একক প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক স্থানান্তরিত এই বিদ্যালয়টি উ-খিজারী প্রদত্ত যথাস্থাসে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তাই আজও তিনি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে সম্মানিত ও স্মরণীয়। মরহুম মেহের আলী সাহেবের জীবদ্দশায় তাঁর এই মহান কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক সভায় জনৈক সদস্য বিদ্যালয়টিকে 'খিজারী-মেহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়' নামকরণের প্রস্তাব উত্থাপন করলে মেহের আলী স্বয়ং তৎক্ষণাৎ দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, 'খিজারী বিদ্যালয়, খিজারী বিদ্যালয়ই থাকবে। খিজারীর নামের পাশে কারও নাম থাকতে পারে না।' তাঁর এই উক্তি তাঁর সাচ্চা হৃদয়ের নির্লোভ উদারতা ও নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মরহুম মেহের আলীর পর যাঁর অবদান স্মরণীয় তিনি হলেন তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য মরহুম জাফর আলম চৌধুরী। রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামগ্রিক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মরহুম জাফর আলম চৌধুরী ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ বিদ্যালয়টি অপ্রত্যাশিত অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গেলে তিনি বিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক গভর্নর মোনায়েম খানকে সশরীরে আমন্ত্রণ করে এনে বিপর্যস্ত বিদ্যালয়ের করুণ অবস্থা প্রত্যক্ষ করিয়েছিলেন। যে কারণে প্রত্যক্ষদর্শী গভর্নর তৎক্ষণাৎ জরুরিভিত্তিতে ২৫ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিদ্যালয়টি কেবল ৪ জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত হত। এই ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে একমাত্র স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষক ছিলেন বাবু জ্ঞানেন্দ্র বড়ুয়া। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে অতিবাহিত করেছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যালয়টির পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় মরহুম রশিদ আহমদ মাস্টার ও বিদ্যালয়ের দপ্তরী আতর আলীসহ বাবু জ্ঞানেন্দ্র বড়ুয়া অক্লান্ত পরিশ্রম করে অনেক অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। শিক্ষকতার মহান ব্রতে নিবেদিত থেকে বাবু জ্ঞানেন্দ্র বড়ুয়া জ্ঞান বিতরণ করেছেন জন্মভূমিকে অশিক্ষার অন্ধকার অতল থেকে সুশিক্ষার আলোর অভিমুখী করার স্বপ্নসাধনায়।

এই বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে অনেকে অকাতরে দান করে গেছেন অবৈতনিক শিক্ষকতার মাধ্যমে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের নাম উল্লেখের দাবি রাখে তাঁরা হলেন অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, উ-মংক্যজ, মাস্টার ফরিদুল আলম, অধ্যাপক দীপক বড়ুয়া, মনমোহন বড়ুয়া, দয়াল হরি শর্মা, জুবায়ের আলম, জহিরুল আলম, অধ্যাপক শাহজাহান মনির প্রমুখ। এ ছাড়া যে দু'জনের কথা স্বীকার না করলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বর্ণনায় ত্রুটি থেকে যাবে, তাঁরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মরহুম রশিদ আহমদ ও দপ্তরী আতর আলী।

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে অদ্যাবধি সুদক্ষ, অভিজ্ঞ ও ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন জ্ঞানীগুণীদের অসাধারণ মেধায় পরিচালিত হয়ে আসছে এই বিদ্যালয়টি। পূর্ণেন্দু দস্তিদারের মতো জ্ঞানীর পরশে ধন্য হয়েছে এই বিদ্যালয়। এ ছাড়া আলতাফ মিঞা, শশীভূষণ ভট্টাচার্য, ব্রজমোহন সাহা, রমেশচন্দ্র গুপ্ত, আলী আহমেদ, নিকুঞ্জবিহারী নন্দী, জহির উদ্দিন, কেদারেশ্বর চক্রবর্তী, ফজলুর রহমান, বিভূতিভূষণ সেন, কাসেম আলী, শেখ আবু আহমেদ, সুরেশচন্দ্র দেব, মমতাজউদ্দিন আহমদ, জাকেরউল্লাহ্, মাহমুদুল হক, অমরনাথ ভট্টাচার্য, মোহাম্মদ আমির, আক্তার আহমদ ও নন্দিত সংগীতজ্ঞ জগদানন্দ বড়ুয়ার মতো জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিত্বরা শিক্ষাক্ষেত্রে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবদানকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছুতে অসামান্য ভূমিকা রেখে গেছেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তব যে, এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে অদ্যাবধি জাতীয়করণ করা হয়নি।

[লেখাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় বাংলা দৈনিক 'সংবাদ'-এর ২৯ এপ্রিল ১৯৯৩ (মোতাবক ১৬ বৈশাখ ১৪০০ বঙ্গাব্দ) তারিখের সংখ্যায় ছাপা হয়। লেখাটি রামুর সাহিত্যসেবী আশীষ কুমার এবং আমি যৌথভাবে তৈরি করেছিলাম। এখানে হুবহু কম্পোজ করে তুলে দেওয়া হল।]
বিস্তারিত পড়ুন

রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১০

যেভাবে বাড়ি ও সুযোগ-সুবিধা

৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে বেগম জিয়া ও তার দুই ছেলেকে গুলশানে প্রায় তিন একর জায়গার ওপরে বাড়িসহ বিপুল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বরের বাড়িটিও লিজ দেওয়া হয় সেনানিবাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রেসিডেন্টস পেনশন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৯ উপেক্ষা করে শুধু মানবিক কারণে তাদের এ সুযোগ-সুবিধা দেন তখনকার কর্তাব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক করে বিপুল পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা খালেদা জিয়া এবং তার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ কোনো রাষ্ট্রপতি কর্মরত থাকা অবস্থায় মারা গেলে বা নিহত হলে তার পরিবার কী সুযোগ-সুবিধা পাবে তাও কিন্তু সুস্পষ্টভাবে আইনে উল্লেখ আছে। প্রেসিডেন্টস পেনশন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৯ তে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে জিয়াউর রহমানের পরিবার কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু তারপরও মন্ত্রিসভা বৈঠক করে বিপুল সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করে।

জানা যায়, ১৯৮১ সালের ১২ জুনের ওই মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে দুটি নয়, একটি বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খালেদা জিয়া সেই বাড়িও নিয়েছেন আবার সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়িটিও ছাড়েননি। আবার বাড়িটি লিজ নেওয়ার জন্যও আবেদন করেননি।

যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে : ১৯৮১ সালের ১২ জুন মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে গুলশান মডেল টাউনে ১৯৬নং রোডের এনই (ডি) ৩বি নং বাড়িটি মাত্র ১০১ টাকা মূল্যে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে বেগম জিয়া ও তার দুই ছেলের কাছে বিক্রি করা হয়। এছাড়া ওই বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, খালেদা জিয়াকে এককালীন ১০ লাখ টাকা অনুদান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতির দেওয়া গাড়ির মূল্য বাবদ এক লাখ ৭৪ হাজার টাকাও দেওয়া হয়। বেগম জিয়ার জন্য একজন গাড়িচালক, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন বাবুর্চি, বেয়ারা দু'জন এবং মালি ও ঝাড়ুদারের একটি করে পদ সৃষ্টি করা হয়। সরকারি খরচে একটি টেলিফোন, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর দেশে-বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন এবং তাদের বয়স ২৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে মাসিক দেড় হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার জন্য সরকারি একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়, যে গাড়ির জ্বালানি খরচ সরকার দেবে। এছাড়া বাড়ির গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিলও সরকার দেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। আর মইনুল রোডের ৬নং বাড়িটি এক টাকার বিনিময়ে পারমিচুয়াল লিজের মাধ্যমে কতিপয় শর্তে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়। তবে এ বাড়িটি লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নেওয়া হয়নি।

আইনগতভাবে যা পাওয়ার কথা : জানা যায়, প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধার প্রায় সবই ছিল বিধিবহির্ভূত। কারণ একজন রাষ্ট্রপতি কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে কি সুযোগ-সুবিধা তার পরিবার পাবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে প্রেসিডেন্টস পেনশন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৯ তে। এ অর্ডিন্যান্সের ২(৪) ধারা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া এবং দুই পুত্রের শুধু গ্রাচুইটি পাওয়ার কথা। কাজেই প্রেসিডেন্টস পেনশন অর্ডিন্যান্স সংশোধন না করে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক নয় বলে মনে করেন আইনবিদরা। সুবিধা দিতে হলে প্রেসিডেন্টস অর্ডিন্যান্স সংশোধন না করে দেওয়া যায় না বলে মনে করা হয়।

সেনানিবাসের বাড়ি : এছাড়া যে আইন বলে খালেদা জিয়ার মইনুল রোডের বাড়ি লিজ পাওয়ার কথা সেই আইনেই বলা আছে, লিজ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই আবেদন করতে হবে। কিন্তু খালেদা জিয়া বাড়িটির লিজ পেতে আজও পর্যন্ত কোনো আবেদনই করেননি। আগে থেকেই তিনি যেহেতু বাড়িটিতে থাকতেন তাই আবেদন না করেই ৩০ বছর ধরে ওই বাড়িটিতেই আছেন।

জানা যায়, বাড়িটি লিজ দেওয়ার সময় আবেদন করতে বলার পাশাপাশি লিজের চুক্তিতেও কিছু শর্ত ছিল। চুক্তিতে এটাও উল্লেখ ছিল, ইজারাদার খালেদা জিয়া এসব শর্তের একটি ভঙ্গ করলেও সরকার চুক্তি বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করবে। এসব শর্তের মধ্যে একটি শর্ত ছিল বাড়িটির মূল কাঠামো পরিবর্তন করে কিছু নির্মাণ বা কিছু ভাঙা যাবে না। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান মইনুল রোডের বাড়িটির ভেতরে একটি তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

সৌজন্যে : 'বাংলাদেশ প্রতিদিন', ১৪ নভেম্বর ২০১০, রবিবার
বিস্তারিত পড়ুন

সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০১০

বাইনারি এবং ডিজিটাল: দুজনে দুজনার!

খনো ভেবে দেখেছেন যে সংখ্যা নিয়ে কাজ করতে আদ্যিকালের মানুষদের কেমন সমস্যায় পড়তে হতো? পিথাগোরাসের মতো গণিতবিদ কেন দুই-এর বর্গমূল বের করতে নাকানিচুবানি খেয়েছিলেন? কেনই বা আর্কিমিডিসের মতো মহারথী শেষতক পাই-এর মান দশমিকের পর মাত্র দুই ঘর পর্যন্ত সঠিকভাবে বের করে রণে ভঙ্গ দিলেন? রোমান সংখ্যা পদ্ধতি জেনে থাকলে বলুন তো, রোমান পদ্ধতিতে MMCXLVIII = ? বোধহয় জানেন যে এখানে M = 1000, C = 100, L = 50, X = 10, V = 5 এবং I = 1 বোঝাচ্ছে। কিন্তু এটুকু জানলেই তো হবে না। এই চিহ্নগুলো কোন অবস্থানে বসলে তার হিসাবটা কেমন দাঁড়াবে সেটাও জানা চাই। যেমন, এই উদাহরণে MMCXLVIII = 1000 + 1000 + 100 + 50 - 10 + 5 + 1 + 1 + 1 = 2148। কত জটিল একটি প্রক্রিয়া! দেখতে এমনিতেই বিদঘুটে, তার ওপর আবার মান বের করতে আরেক ফেঁকড়া—কখনো যোগ কখনো বিয়োগ, একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা। এমনতর সংখ্যাপাতন নিয়ে কাজ করতে গেলে তো পিথাগোরাসই হোক আর আর্কিমিডিসই হোক, সে যতই মহাপরাক্রমশালী গণিতজ্ঞ হোন না কেন, আজকালকের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীর কাছে পাটিগণিতের দৌড়ে গো-হারা হারবেন, তাতে আশ্চর্য কী!
 
আমরা এখন যে সংখ্যাপাতন ব্যবহার করি সেটা তবে কেমন? সেটা কি রোমান পদ্ধতির চেয়ে ভালো? ওই 2148-এর কথাই ধরুন। এখানে 2, 1, 4 এবং 8 চিহ্নগুলোর মানে কি তা আমরা ভালোই জানি। আমাদের সংখ্যাপাতনে ওই চিহ্নগুলোর একটা বিশেষ নাম আছে—অঙ্ক (digit)। রোমান সংখ্যাপাতনে যেমন কোন চিহ্ন কোথায় বসল সেটা খেয়াল করা জরুরি, তেমনি আমাদের সংখ্যাপাতনেও অঙ্কগুলোর অবস্থান জানা আবশ্যক, নতুবা সংখ্যাটার মান বের করা সম্ভব নয়। 2148-এর 2 এবং 4 যদি একে অপরের সঙ্গে জায়গা বদল করে তাহলে সংখ্যাটা পাল্টে 4128 হয়ে যায়। এমন কেন হয় তা বুঝতে হলে আরেকটু পেছনে তাকাতে হবে। 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9—এই পর্যন্ত এসে দেখা যাচ্ছে, আমাদের অঙ্কের ভান্ডার ফুরিয়ে গেল। কারণ আমরা যেভাবে গুনতে শিখেছি সেখানে অঙ্ক আছে সর্বসাকল্যে দশটি। তাই উপায় না দেখে 9-এর পরে 10 বসাই। এখানে এক অঙ্কের সবচেয়ে বড় সংখ্যা 9-এর পরে চক্রাকারে 0 এসে জুটেছে, তবে একটা পুরো চক্কর ইতিমধ্যে যে দেওয়া শেষ তা বোঝাতেই ওই 0-এর বামে একটা 1 বসেছে। এভাবে 10, 11, 12, 13, ... 19-এর পরে গিয়ে আরেক চক্কর পুরো হওয়ায় 0-এর বামে একটা 2 বসে তৈরি করল 20। এমনিভাবে দুই অঙ্কের সবচেয়ে বড় সংখ্যা 99-এর পরে বসছে 100 এবং এভাবে অসীমতক চলছে তো চলছেই!
 
তাহলে দেখা যাচ্ছে, কোনো অঙ্কের ঠিক বাম পাশে যে অঙ্কটি বসছে সেটা আসলে প্রথমোক্ত অঙ্কটি কতগুলো চক্কর সম্পন্ন করেছে তার হিসাব দেয়। 2148-এর ক্ষেত্রে, সবচেয়ে ডানের 8 থেকে বোঝা যায় যে সেটি তার সর্বশেষ চক্করের পর আট ধাপ এগিয়েছে। তার বামে 4 নির্দেশ করছে যে দশ অঙ্কের চারটি চক্কর (4 × 10 = 40) সম্পন্ন করে অবশিষ্ট 8 তার ডানে বসেছে। একইভাবে 4-এর বামে 1 নির্দেশ করছে যে সেখানে একটি চক্কর সম্পন্ন হয়ে 4 বাকি রয়েছে। এটা যেহেতু বাম থেকে তিন নম্বর স্থান, তাই এখানকার এক চক্কর মানে হলো সর্বমোট 1 × 10 × 10 = 100 চক্কর। তাহলে আমরা যে সংখ্যাপাতন ব্যবহার করি সেখানে বিভিন্ন অঙ্ক তার অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন মান নেয়। 2148-এর মান বুঝতে হলে চক্করের হিসাবটা মাথায় থাকা দরকার। 2148 = (2 × 10 × 10 × 10) + (1 × 10 × 10) + (4 × 10) + 8
= 2 × 103 + 1 × 102 + 4 × 101 + 8 × 100

রোমানরা সংখ্যার বিভিন্ন চিহ্নের স্থানভিত্তিক মান বের করতে যে হরেক রকমের যোগ-বিয়োগের ব্যবসা ফেঁদেছিল, তার তুলনায় আমাদের সংখ্যাপাতন বেশ সাদামাটা। বাম থেকে যত নম্বর ঘর তার চেয়ে এক কম হবে দশের ঘাত (power) এবং এভাবে যা পাওয়া যাবে ওই ঘরে বসা অঙ্কের যা মান তার সঙ্গে গুণ করুন। তারপর এভাবে পাওয়া সবগুলো মান যোগ করতে হবে। দশটা চিহ্নেই কেল্লাফতে! অসীম পর্যন্ত সংখ্যা লেখা যাচ্ছে। রোমানদের সংখ্যা একটু বড় হলেই সেটাকে লেখার জন্য নিত্যনতুন চিহ্ন আমদানি করতে হতো।

প্রশ্ন হলো, আমাদের সংখ্যাপাতনে দশটার কম চিহ্ন ব্যবহার করে অসীমতক সংখ্যা লিখে যাওয়া সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব! বর্তমানে প্রচলিত সংখ্যাপাতনের যে বিশেষ রূপটি আমরা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যবহার করি সেটায় চিহ্ন বা অঙ্ক দশটি, তাই এর আরেক নাম দশমিক বা দশভিত্তিক (decimal) সংখ্যা-পদ্ধতি। এই একই সংখ্যাপাতনে যেকোনো n সংখ্যক (n স্বাভাবিক সংখ্যা) চিহ্ন ব্যবহার করে n-ভিত্তিক সংখ্যা-পদ্ধতি বানানো যায়। উদাহরণস্বরূপ পাঁচভিত্তিক সংখ্যা-পদ্ধতি বানিয়ে দেখা যাক। পাঁচভিত্তিকে অঙ্ক পাঁচটি—0, 1, 2, 3 এবং 4। এর বাইরে আর কোনো অঙ্ক সেখানে ব্যবহার করা চলবে না। দশ ভিত্তিকে যেমন 9-এর পরে 10 বসল তেমনি পাঁচভিত্তিকে 4-এর পরে 10 বসবে। একটু অদ্ভুত লাগছে বটে, তবে দশ ভিত্তিকের 5 এবং পাঁচ ভিত্তিকের 10 একই সংখ্যা নির্দেশ করে! সাধারণভাবে বলা যায়, a1a2a3a4...ak যদি k অঙ্কবিশিষ্ট n-ভিত্তিক সংখ্যা হয় তাহলে তার মান হবে, a1 × nk–1 + a2 × nk–2 + a3 × nk–3 + ... + ak–1 × n1 + ak × n0
এটাই হলো আমাদের বহুল ব্যবহূত সংখ্যাপাতনের সাধারণ রূপ। এখানে n-এর মান দশ বসালে সেটা হবে দশ ভিত্তিক সংখ্যাব্যবস্থা, পাঁচ বসালে পাঁচ ভিত্তিক, ত্রিশ বসালে ত্রিশ ভিত্তিক, ষোল বসালে ষোল ভিত্তিক ... ইত্যাদি ইত্যাদি। অবশ্য দশের বেশি ভিত্তি নিয়ে কাজ করতে গেলে নতুন চিহ্ন আমদানি করতে হবে। যেমন: ষোলভিত্তিক সংখ্যাব্যবস্থার অঙ্কগুলো হলো 0, 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, a, b, c, d, e এবং f।

এখন প্রশ্ন হলো, আলোচ্য সংখ্যাপাতনে সবচেয়ে সরল সংখ্যা-পদ্ধতি কোনটা হতে পারে? যেটায় সবচেয়ে কমসংখ্যক চিহ্ন ব্যবহার করা লাগে, সেটাই নিশ্চয়ই সবচেয়ে সরল। সবচেয়ে সরল সংখ্যা-পদ্ধতি হলো দুই ভিত্তিক (binary) পদ্ধতি। বাইনারি গণনায় 1-এ এসেই দেখা যাচ্ছে আমাদের অঙ্কের ভান্ডার ফুরিয়ে গেল। কারণ বাইনারিতে অঙ্ক আছে সর্বসাকল্যে দুটি—0 এবং 1। তাই উপায় না দেখে 1-এর পরে 10 বসাই। এখানে এক অঙ্কের সবচেয়ে বড় সংখ্যা 1-এর পরে চক্রাকারে 0 এসে জুটেছে, তবে একটা পুরো চক্কর ইতিমধ্যে যে দেওয়া শেষ তা বোঝাতেই ওই 0-এর বামে একটা 1 বসেছে। এভাবে 10, 11-তে গিয়ে আরেক চক্কর পুরো হওয়ায় 0-এর বামে আরও একটা 0 বসে সেই চক্করও খতম করে তৈরি করল 100। দশ ভিত্তিকে যা 4, বাইনারিতে সেটাই 100। তারপর আসবে 101, 110, 111, 1000, 1001, ... এভাবে অসীমতক চলতে থাকবে। বাইনারিতে 101010-এর মান কত? উপরের সংখ্যাপাতনের ‘চক্করওয়ালা’ সাধারণ সূত্র হতে লেখা যায়, বাইনারিতে 101010 = 1 × 25 + 0 × 24 + 1 × 23 + 0 × 22 + 1 × 21 + 0 × 20 = 42। অর্থাৎ বাইনারিতে যা 101010, দশভিত্তিকে তা-ই 42।
 
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে চারদিক কম্পিউটারে সয়লাব। এই কম্পিউটারের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের মূলে আছে বাইনারি—1 আর 0, on আর off, বিদ্যুৎপ্রবাহের উপস্থিতি আর অনুপস্থিতি। বাইনারির ব্যাপারটা যদি না থাকত তাহলে আমরা কম্পিউটার বানাতে পারতাম না। কারণ হলো বিদ্যুতের কিংবা বিজলি বাতির মাত্র দুটি অবস্থা হতে পারে। আছে বা নেই, জ্বলে বা নিভে থাকে। এই আছে বা নেই দিয়ে যদি সব ‘কথা’কে প্রকাশ করা যায় তাহলেই কেবল বিদ্যুৎ দিয়ে ‘কাজ’ করার যন্ত্র বানানো সম্ভব। কম্পিউটার হোক বা মুঠোফোন হোক সবই এই এক আর শূন্যের ভোজবাজি। কম্পিউটারে টাইপ করার বেলায় একসেট ক্যারেক্টার ব্যবহূত হয়। প্রতিটি বর্ণ এক একটি ক্যারেক্টার, প্রতিটি বিরামচিহ্ন এবং কার-ফলা এক একটি ক্যারেক্টার, কিছু ক্যারেক্টার আছে যেগুলো চাপলে কম্পিউটারের পর্দায় সেটার জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিহ্ন ভেসে ওঠে না কিন্তু লেখার ধাঁচকে প্রভাবিত করে—সেগুলোও এক একটা ক্যারেক্টার। আমাদের দেশে প্রতিটি মুঠোবার্তার সর্বোচ্চ সীমা 160 ক্যারেক্টার, 160 বর্ণ নয়। এই ক্যারেক্টারগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে চিহ্নিত করার জন্য কম্পিউটারের ভেতরে বাইনারি পদ্ধতিকে কাজে লাগানো হয়। আগে ছিল আসকি সংকেত আর এখন হয়েছে ইউনিকোড। দুটোতেই সব বর্ণকে এক আর শূন্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। কাজেই কম্পিউটারের কাজ করতে কোনো অসুবিধা হয় না। এ কারণে বাইনারি পদ্ধতিকে অনেকে ডিজিটাল পদ্ধতি বলে।
 
সবশেষে একটি প্রশ্ন। এই দুনিয়ায় 10 ধরনের মানুষ আছে—যারা বাইনারি বোঝে আর যারা বাইনারি বোঝে না। প্রিয় পাঠক, আপনি কোন দলে?

ডিজিটাল দিনের শুভেচ্ছা।
 
সৌজন্যে: প্রথম আলো (১০ অক্টোবর ২০১০, রবিবার)
বিস্তারিত পড়ুন

বৃহষ্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০

আগে ছিল আশীর্বাদ (!), এখন অভিশাপ

৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে যখন ইস্যুটা শুরু হয় তখন মোটামুটি দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতির সামাল দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান। পরে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার যখন একই ইস্যু নিয়ে দেশের পরিস্থিতি বেসামাল তখনকার সরকার প্রধান কিন্তু বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। বরং ধর্মীয় আবেগকে প্রশ্রয় দিয়ে সমস্যার স্থায়ী রূপ দেন। স্থানীয় শিক্ষিত বেকার, জনপ্রতিনিধি এবং আমলারা ওই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যাঁর-যাঁর আখের গুছিয়েছেন। কেউ-কেউ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন।

এখন কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষ পরিবেশ বাঁচাও-পরিবেশ বাঁচাও বলে যে চিৎকার দিচ্ছেন তখন কেন তাঁরা দূরদৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করেননি? এসব ভণ্ড পরিবেশবাদী, জনপ্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীদের তখনকার আরাধ্য ছিল একটাই; তা হল, ওইসব অনুপ্রবেশকারীদের দেখভালের জন্য যে-সমস্ত আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা বাংলাদেশে আসন গেড়েছে সেগুলোয় চাকরি পাওয়া, নয় তো ঠিকাদারি জোগাড় করা। ওইসব অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত পাড়ি জমিয়েছে আমাদের দেশপ্রেমিক (!) জনপ্রতিনিধি আর আমলাদের কল্যাণে। এখন প্রবাসে তাদের অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বাংলাদেশের।

এবার বুকে হাত দিয়ে ভেবে দেখুন তো আমরা কতোটুকু দেশপ্রেমিক, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এবং বিচক্ষণ?
বিস্তারিত পড়ুন

রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১০

এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?

কান টানলে যেমন মাথা আসে, তেমনি মতিউর রহমান প্রসঙ্গ এলে প্রথম আলোও আপনা-আপনি চলে আসে। তিনি যেভাবে ভোরের কাগজ থেকে দলবলসহ বেরিয়ে এসে প্রথম আলো জন্ম দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে একে শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছেন তাতে করে আমার বিবেচনায় মতিউর রহমানকে প্রথম আলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর থেকে প্রথম আলো যেভাবে সোচ্চার (যেমন: ফলো-আপ রিপোর্ট, সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় এবং মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে) হয়েছে অন্য কোনো পত্রিকা কি সে রকম সোচ্চার হয়েছে?

সেই সফল সম্পাদক মতিউর রহমান সম্পর্কে কিনা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন! মতিউর রহমানের দিকে সন্দেহের আঙুল তুলেছেন কে বা কারা? অভিযোগটা কি আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের পক্ষ থেকে, না কি বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে?
বিস্তারিত পড়ুন

সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০১০

'উপজাতি না আদিবাসী ?'


পর্যুক্ত শিরোনামটি আমার দেওয়া না, সিকদা৭১ এর কাছ থেকে ধার নেওয়া। সিকদা৭১ এই শিরোনামে গত ২৫ আগস্ট একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসাবে আমিও উক্ত পোস্টে একটি মন্তব্য করেছিলাম। আমার মন্তব্যের সূত্র ধরে পোস্টদাতা এবং পরে আমারসহ অন্যান্য ব্লগারের আরও যে-সব মন্তব্য এসেছে সেগুলো নীচে কপি-পেস্ট করে (বাঁকা হরফে) দিলাম:

মং হ্লা প্রু পিন্টু ২৫ আগস্ট ২০১০, ১৪:৫২
আপনার পোস্টটি পড়ে আমার ধারণা হল, আদিবাসী বলুন কিংবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীই বলুন আপনি তাদের উপজাতি বানিয়েই ছাড়বেন। বাংলায় উপজাতি শব্দটা নিশ্চয়ই কোনো ইংরেজি শব্দ থেকে এসেছে, তাই না? এবার দয়া করে বলুন, কোন ইংরেজি শব্দ থেকে অবমাননাকর এই উপজাতি শব্দটা এসেছে। তার পর আমি আমার বক্তব্য উপস্থাপন করব।

সিকদা৭১ ২৫ আগস্ট ২০১০, ১৫:২৩

আপনি হয়ত না কিন্তু আপনাদের স্বজাতি যেভাবে বিদেশের মাটিতে বাংগালীদের তথা বাংলাদেশিদের আত্যাচারি বানিয়ে যে ভাবে প্রপাগান্ডা চালাছ্ছে তা কি মেনে নেওয়া যায়?এতে আমার মত কেউ যদি দেশ প্রেমের কারনে কিছু সত্য তথ্য যদি তুলে ধরে তা কি অন্যায়?

মং হ্লা প্রু পিন্টু ২৫ আগস্ট ২০১০, ১৬:০৭
আপনি কিন্তু আমার প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন।

আপনাদের স্বজাতি, এখানে আমার বা আমাদের স্বজাতি বলতে আপনি কাদের বুঝিয়েছেন ঠিক বোধগম্য হল না। ধরে নিচ্ছি, আপনি চাকমাদের বুঝিয়েছেন। আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমারাই রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বেশি নিয়েছে কিংবা পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শিক্ষাবৃত্তির বলতে গেলে ৯৯ শতাংশই চাকমাদের দখলে। আর এগুলোর বেশির ভাগ হয়েছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে, যোগ্যতার মাপকাঠিতে হয়েছে খুব কম।
সে যা-ই হোক, উপজাতি কন্সেপ্ট বা ধারণা নিয়ে আমি আপনার সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। এখানে বলে রাখা ভালো যে, আমি উপজাতি শব্দের ঘোর বিরোধী।

নিজাম কুতুবী ২৫ আগস্ট ২০১০, ১৯:১৩
উপজাতি না আদিবাসী ?
কোনটাই নয়
আমরা সবাই বাঙ্গালী

মং হ্লা প্রু পিন্টু ২৫ আগস্ট ২০১০, ১৯:৩৫

নিজাম ভাই, কিছু মনে করবেন না। এখানেও (আপনার ওই বাক্যের ব্যাপারে) আমার দ্বিমত আছে।
দ্বিমতের প্রধান কারণ, আমি বাংলা ভাষাভাষির লোক নই অর্থাৎ আমার মাতৃভাষা বাংলা নয়।

পলাশমিঞা ২৫ আগস্ট ২০১০, ২০:১০
অনেক কিছু আজ জানলাম।

সাইদুর রহমান চৌধুরী ২৬ আগস্ট ২০১০, ০২:৩৩

যে বা যারাই এই 'উপজাতি' শব্দটির প্রচলন করেছেন তাঁরা এটা মাথায় আনেননি যে শব্দটি যাদের উদ্দেশ্যে ব্যবহুত হচ্ছে তাঁদের জন্য অসম্মানজনক, কারন 'উপ' দিয়ে কম, অধস্তন বা নিম্নমানের এরকম বোঝানো হয়। কাজেই উপজাতি বললে জাতির-উপ হয়ে যায়, সে হিসাবে ইংরেজি ট্রাইব এর বাংলা হিসাবে 'উপজাতি' যথাযথ শব্দ হয়নি, এটা ব্যবহার করাও অনুচিত মনে করি।
ট্রাইব-এর যে নৃতাত্ত্বিক সঙ্গা, তাতে আমাদের দেশের এই জাতিসত্ত্বাসমূহ ট্রাইবই, ইংরেজিতে ট্রাইব শব্দটি অসম্মানজনকও নয়, কিন্তু তার বাংলা 'উপজাতি' করলে তা অসম্মানজনক হয়ে যায়।

মং হ্লা প্রু পিন্টু ২৬ আগস্ট ২০১০, ১২:৩৪

সাইদ ভাই, আপনি ট্রাইব-এর সংজ্ঞা টানতে গিয়ে নৃতাত্ত্বিক প্রসঙ্গটি টেনেছেন, এবং টেনে আমাদের ( ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহ) ট্রাইব অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন। আমার মতে, এ ব্যাপারেও বিস্তর আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
স্থান-কাল ভেদে ট্রাইবরা কখনো জাতিতে (নেশন) উন্নীত হয় কি না? কিংবা জাতি কখনো ট্রাইব-এ পরিণত হয় কি না?
আপনি তো এখন বিদেশে আছেন। ইংল্যান্ডের পূর্ব লন্ডনে তো অনেক বাঙালি (বাংলা ভাষাভাষি) স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা সেখানে কেবল বাঙালি, না বাংলাদেশি বাঙালি / ভারতীয় বাঙালি, না কি বাঙালি ট্রাইব (উপজাতি) নামে পরিচিত?
প্রশ্নটা অন্যভাবেও করা যায়, ভারতে তো একাধিক ট্রাইবাল (ক্ষুদ্র জাতিসত্তা অধ্যুষিত) প্রদেশ এখনও বিদ্যমান। যেমন: মণিপুর, ত্রিপুরা, মিজোরাম প্রভৃতি। অদূর ভবিষ্যতে এ সমস্ত প্রদেশ থেকে প্র অব্যয়টি খসে গেলে এরা কি জাতিতে (নেশন) উন্নীত হয়ে যাবে?
এই ভূখণ্ডে বাঙালিরা শাসকশ্রেণী তো, তাই নিজের (সংকীর্ণ) অবস্থান থেকেই তারা সবকিছুকে দেখে এবং সংজ্ঞায়িত করে।
সাইদ ভাই, এ প্রসঙ্গে আমি আপনার further বক্তব্য প্রত্যাশা করছি।

আমার প্রত্যাশা ছিল, প্রিয় ব্লগার সাইদুর রহমান চৌধুরী (এবং আগ্রহী অন্য ব্লগাররাও) আলোচনাটি চালিয়ে যাবেন যাতে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে মোটামুটি একটা উপসংহারে পৌঁছানো যায়। কিন্তু আলোচনাটি আর এগয়নি। হয়তো তিন-চার দিনের পুরনো পোস্ট বলে আমার শেষ মন্তব্যটি সবার, বিশেষ করে সাইদ ভাইয়ের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। তাই, সবার অংশগ্রহণের প্রত্যাশায় প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো কপি-পেস্টের মাধ্যমে নতুন পোস্ট আকারে উপস্থাপন করা। জানি না, আমার এই নতুন পোস্ট দেওয়ার ব্যাপারটাকে ব্লগাররা বাড়াবাড়ি বলে মনে করবেন কি না।
বিস্তারিত পড়ুন

শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০১০

'কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানসমূহ' এর 'মাথিনের কূপ, টেকনাফ' প্রসঙ্গে

দৈনিক রূপসীগ্রাম এর সূচনা সংখ্যার চাররঙা সাপ্লিমেন্টারি টেবলয়েডের লেখাগুলোয় চোখ বুলাচ্ছিলাম। এক জায়গায় (১৫-১৬ পৃষ্ঠায়) মং বা অঙের লেখা (উল্লিখিত শিরোনামের) দেখে আগ্রহ নিয়ে পড়ছিলাম। কিন্তু লেখাটির এক জায়গায় (মাথিনের কূপ, টেকনাফ উপ-শিরোনামের অংশে) এসে আমার মনে খটকা লাগল। সে অংশটুকু আমি এখানে হুবহু উদ্ধৃতি দিচ্ছি, ...চতুর্দশ বয়সী জমিদার কন্যা মাথিন ও ধীরাজ ভট্টাচার্যের নিখাদ প্রেমের ঐতিহাসিক নিদর্শন এ মাথিনের কূপ। গোত্র আভিজাত্যের প্রতিবন্ধকতায় ধীরাজ জমিদার মগ কন্যাকে বিয়ে করতে ব্যর্থ হন। সুমধুর প্রেমের করুণ বিচ্ছেদে প্রেম সম্রাজ্ঞী তিলে তিলে মৃত্যু বরণ করেন। এতে শাশ্বত অকৃত্রিম প্রেমের এক ইতিহাস বিরচিত হয়। মাথিনের অতৃপ্ত প্রেমের অমোঘ সাক্ষী মাথিনের কূপ।
লেখক মং বা অং তাঁর ঙারো রাখাইন গ্রন্থে মাথিনের কূপ প্রসঙ্গে ঠিক উল্টো কথাই লিখেছিলেন। আমি এখানে মং বা অঙের গ্রন্থ থেকে দুটো অংশ হুবহু উদ্ধৃতি দিচ্ছি, ...১৯৮৪ সালের আগ পর্যন্ত টেকনাফের অন্যান্য পাতকূয়ার মতই এটি একটি সাধারণ পাতকূয়া ছিল মাত্র। টেকনাফের তরুণ সাংবাদিক আবদুল কুদ্দুস রানা ধীরাজ ভট্টাচার্যের ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ উপন্যাসে বর্ণিত কাহিনীর আলোকে ‘দুটি জীবনের মিলন ও বিচ্ছেদের সাক্ষী’ শিরোনামে ধীরাজ-মাথিনের প্রেম কাহিনী, অসম ও অতৃপ্তি প্রেমের নীরব সাক্ষী হিসেবে কূপটিকে বর্ণনা করে কূপের পাশে একটা সাইনবোর্ড টাংগিয়ে দেন। (পৃষ্ঠা ১৪৫)
...লাইলী-মজনু, রোমিও-জুলিয়েট এর সত্য প্রেম কাহিনী নিয়ে নাটক, সিনেমা আছে, থাকবে এতে কারো দ্বিমত নেই। ধীরাজ-মাথিনের প্রেম কাহিনী যেখানে সত্যাসত্য নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন সে কাহিনী নিয়ে টেলিফিল্ম নির্মাণ হওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত হয়েছে তা সাধারণ পাঠক মাত্রই অনুধাবন করতে পারবেন। (পৃষ্ঠা ১৪৮)
এ ব্যাপারে মং বা অঙের সঙ্গে মুঠোফোনে আমি কথা বলেছি। তিনি জানালেন, মাথিনের কূপ নিয়ে তিনি যা লিখেছেন তা ছাপা হয়নি, ছাপা হয়েছে কেবল ধীরাজ ভট্টাচার্যের কল্পকাহিনী।
এখন আমার প্রশ্ন, সম্পাদক কি একজন লেখকের বক্তব্যকে নিজের মতো উপস্থাপন করতে পারেন?

মং হ্লা প্রু পিন্টু
রামু, কক্সবাজার
maung.pintu@gmail.com
বিস্তারিত পড়ুন

বৃহষ্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০১০

মহেশখালিতে ১০টি বধ্যভূমির সন্ধান

ক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালিতে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৩৯ বছর পর এই প্রথম বারের মতো নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় ১০টি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব বধ্যভূমিতে চিরশায়িত আছেন '৭১ সালে রাজাকার-আলবদরের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া ৮৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মহেশখালিতে বধ্যভূমির শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরুই করা যায়নি। তৎকালীন শাসক দলীয় লোকজনের পরামর্শে স্থানীয় প্রশাসন মহেশখালিতে মুক্তিযোদ্ধার কোনো বধ্যভূমির অস্তিত্ব নেই বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট দিয়েছিল। অথচ সেই মহেশখালিতে একে-একে বেরিয়ে এসেছে ১০টি বধ্যভূমি এবং সেখানে চিরশায়িত মুক্তিকামী ৮৮ জন বীর শহিদের তালিকা, যেগুলো এতোদিন শনাক্তকরণের অভাবে অবহেলায় পড়ে ছিল। অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে গত ২৬ জুলাই কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক গিয়াস উদ্দিন ও মহেশখালির উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম কাউসার হোসেন এর উদ্যোগে শুরু হয় শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের বধ্যভূমি আবিষ্কার, সংরক্ষণ ও শহিদদের তালিকা তৈরির কাজ। এ লক্ষ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে আহ্বায়ক করে একটি বধ্যভূমি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। উক্ত টিম ২৬ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় গিয়ে অনুসন্ধান করে মোট ১০টি বধ্যভূমি আবিষ্কার করে। অনুসন্ধানে উঠে আসা ৮৮ জন শহিদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ১৩ জন মুসলমান, ৩ জন রাখাইন (একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ) এবং অবশিষ্ট ৬২ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ হিন্দু।

বিস্তারিত এখানে ~
বিস্তারিত পড়ুন

বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০১০

প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যাপীঠ

শিশুদের আগামী দিনের রাষ্ট্রের উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে সরকার  শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।  আমাদের সমাজে অনেক প্রকার প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে । তারা কোন সময় সমাজ,জাতি,ও রাষ্ট্রের  জন্য বোঝা হতে পারে না।স্ব-স্ব মেধায় উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে  সরকারী,বেসরকারী ভাবে প্রচেষ্টা দিন-দিন বৃদ্ধি করতে উচিত । শহর ও গ্রামের অর্থশালী পরিবারের প্রতিবন্ধী  শিশুদের অভিভাবকরা  তাদের কে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষা প্রদানের  ব্যবস্থা করতে পারলে ও অজপাড়া গাঁয়ের দরিদ্র পরিবারের সেই  প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য এখনো স্থানীয় ভাবে শিক্ষার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।এ কারনে  সরকারের পাশপাশি বেসরকারী প্রতিষ্টান  ও বিত্তবান দের  সমাজ সেবার মনোভাব দিন-দিন বেড়ে চলছে । দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে  সকল শ্রেনীর প্রতিবন্ধী অ-প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষার অধিকার  নিশ্চিত করতে এক অন্যন্য ও ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় উদ্দ্যোগে এগিয়ে এসেছে অত্র এলাকার একজন সংবাদকর্মী ও অপর কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর প্রচেষ্ঠায় সম্ভব হয়েছে এই মহতি উদ্দ্যোগ। এলাকার হতদরিদ্র  প্রতিবন্ধী অ-প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তত পক্ষে উপযুক্ত সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে প্রথমে দঃ পুটিবিলা বিদ্যানিকেতন ও পরে দঃ পুটিবিলা প্রদীপালয় নামে ¯কুলগড়ে তুলেছেন যা বর্তমানে  মহেশখালী  উপজেলার একমাত্র প্রতিবন্ধী স্কুল নামে পরিচিত । একটি এনজি ও সংস্থার পরিতাক্ত থ্রিতল বিশিষ্ঠ সাইক্লোন সেন্টারে  ২০০৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর  আনুষ্টানিক শ্রেণী কার্যক্রমের সূচনালগ্নে একটি আদর্শ লিপি বই দিয়ে শুরু করা স্কুলটি নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্তেও বর্তমানে  মহেশখালী উপজেলা প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী জাতীয় দিবস সমুহে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহন করে  সম্মানের সাথে এগিয়ে চলার পাশা-পাশি এখনকার প্রতিবন্ধী শিশুকিশোর এবং তাদের পিতা মাতাদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী উৎসাহ উদ্দীপনা- ও ছেলে সন্তানের সু- নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে আশার সঞ্চার করছে। স্থানীয়- দুইজন  শিক্ষিত মেয়ে রহিমা বেগমও কামরুন নাহার গ্রামে-গ্রামে ঘুরে-ঘুরে তারা ছাত্রছাত্রী- সংগ্রহ করে কঠোর  পরিশ্রম এর মাধ্যমে ১৩ জন প্রতিবন্ধী সহ ৪৭ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে এ বিদ্যালয়টি পথচলা শুরু হয়। স্কুলের অন্যতম সহযোগি প্রতিষ্ঠান এসআরপিভি-বাংলাদেশ এর রাজেস খান্না সুশীল প্রতিবন্ধী পরিবারকে  শিক্ষার ব্যাপারে বুঝাতে অনেকাংশে  সফল ও সক্ষম হয়েছেন। প্রতিবন্ধীরা সমাজের বুঝানয় সম্পদ, এরা ও মানুষ এদের মেধা পৃথীবির চালিকা শক্তির মহত প্রতিভা লুকায়িত আছে এ কথাটি আজ অত্র স্কুলের প্রতিষ্ঠাকারীরা প্রমান করতে শতভাগ সক্ষম হয়েছে । প্রতিবন্ধী প্রদীপালয় স্কুলটিকে  চলতি বছরে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত চালু হয়েছে।২ জন প্রতিবন্ধী শিশু সরকারী  শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছে,৪ জন  মহিলা শিক্ষক ও একজন পুরুষ শিক্ষকের মাধ্যমে  বর্তমানে ৩২ জন প্রতিবন্ধী ছাত্র সহ ২৫৩ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে।কথা হয় প্রদীপালয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজীৎ দাশ নিবাসের সাথে তিনি জানান শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে পড়ায় এলাকাটিতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পাশা-পাশী প্রতিবন্ধী ৩২ জন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্তের প্রতিবন্ধী অনেক শিশুরা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারেনা। সিমেন্টের ফ্লোরে বসে প্রতিষ্টার ৪ বছর ধরে লেখাপড়া করে আসছে।বিদ্যুৎ স্যানিটেশন,টিউবওয়েল, সমস্যা এই বিদ্যালয়ের নিত্যদিনের সঙ্গী।প্রতিবন্ধী শিশুদের ব্যায়াম করার জন্য বিশেষ কোন উপকরণ নেই বললেই চলে। স্কুল টি প্রতিষ্টার পর থেকে ৫ জন শিক্ষক বেসরকারী এনজিও এসএআরপিভি-বাংলাদেশ সহায়তায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা সম্মনী  ভাতা নিয়ে  শিক্ষাদান করে আসছেন।  স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান  শিক্ষকদের  কারো প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা দানের পুর্ব অভিজ্ঞাতা না থাকায় তাদের প্রশিক্ষন একান্ত পরিহার্য হয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ মাধ্যমে বিদ্যালয়টির জন্য সরকারী বেসরকারী পর্যায় থেকে সহযোগিতা পাওয়া গেলে শিক্ষার পরিবেশ অনেক উন্নত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা রাখেন। অভিজ্ঞ মহলের অভিমত কক্রাবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা এই প্রতিবন্দ্বী বিদ্যালয়টি কে গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি  টেকনিক্যাল ও কম্পিউটার  শিক্ষা মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারলে স্কুলটি সারা দেশের প্রতিবন্ধীদের জন্য মডেল হিসাবে বিবেচিত হবে।এলাকাবাসী  বিদ্যালয়টির  নানাবিধ সমস্যা নিরসনে সমাজের বিত্তবান,শিক্ষানুরাগী,ও সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ের সহায়তা কামনা করেন।
বিস্তারিত পড়ুন

বিপ্রতীপ | Template by - Abdul Munir - 2008