বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ০৯, ২০১২

প্রসঙ্গ: আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান

বর্তমান জাতীয় সংসদে পাঁচ-পাঁচজন আদিবাসী সদস্য রয়েছেন, তার পরও কেন আদিবাসী শব্দটির স্বীকৃতি মেলেনি? এই পাঁচজনের দু'জন (মি. দীপঙ্কর তালুকদার এবং মি. প্রমোদ মানকিন) আবার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ উদযাপন/পালন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, একেবারে প্রথম অবস্থা অর্থাৎ সেই ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে। এখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, এই পাঁচজন মাননীয় সংসদ-সদস্য (ব্যাকরণ অনুযায়ী একজন কিন্তু সদস্যা) মহান জাতীয় সংসদে কার বা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছে?

উচ্চারণসহ রাখাইন বর্ণমালা
আমার জানামতে, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের সরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আদিবাসী শিশুরা মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পায় না, তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে (এনজিও পরিচালিত পাঠশালায়) কোনো-কোনো এলাকায় আদিবাসী শিশুরা (বিশেষ করে চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের) মাতৃভাষায় বর্ণমালা শেখার সুযোগ পাচ্ছে। বান্দরবানে কোটি টাকা মূল্যের মারমা ভাষার বর্ণমালা ও শিশুপাঠ্যবই মহল বিশেষের অনীহার (বলা যায় ইচ্ছাকৃত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি) কারণে দীর্ঘদিন ধরে গুদামে পড়ে আছে বলে পাণ্ডুলিপি ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


এ প্রসঙ্গে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া সমতলের আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কথা যদি বলি, তা হলে বলতে হয় অবস্থা আরও করুণ। পাহাড়ি এলাকার মতো এখানে এনজিওদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো কার্যক্রমই পরিলক্ষিত হয় না। অথচ সমতলের বিশেষ-বিশেষ এলাকায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা পাকিস্তান আমলে চালু ছিল।
লেখার নির্দেশসহ রাখাইন বর্ণমালা

এখানে উল্লেখ্য, আমার নিজ বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। আমার জানামতে তৎকালীন কক্সবাজার মহকুমার ৭ কিংবা ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। এমন-কী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও দু'-তিন বছর চালু ছিল। আমি নিজেও প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীতে মাতৃভাষার বই (সহপাঠ হিসাবে) পড়েছি। পরে এই কার্যক্রম কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, বোঝা গেল না। এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছিল এলাকাভিত্তিক এক-একটি ... বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে (যেমন: আমি পড়েছিলাম হারবাং বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ, এটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে অবস্থিত)। তখন এসব বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ বাঙালি শিক্ষকের পাশাপাশি ন্যূনতম একজন রাখাইন শিক্ষক নিযুক্ত থাকতেন। এসব বিদ্যালয়ের নাম এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে, শিক্ষাদানের কার্যক্রমও পুরোদমে চলছে, রাখাইন শিশুরাও এখন বেশি-বেশি করে পড়ছে এবং সর্বোপরি রাখাইন শিক্ষকও নিয়োজিত আছেন। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে এই, এসব বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ রাখাইন শিক্ষার্থীদের আর মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয় না।

কোন মন্তব্য নেই: